খবর: বিনা বিচারে ২২ বছর সিলেট কারাগারে বন্দি থাকার পর আজ মুক্তির স্বাদ পেলেন ফজলু মিয়া।
ছবিটা দেখছিলাম । আর নিউজটা পড়ছিলাম। ফুলের মালা গলায় পরে ফজলু মিয়া জেল থেকে বের হয়েছেন। মনে হয়েছে তিনি যেনো বিদেশ থকে এসেছেন । তাকে বরণ করতে এসেছেন হাসিখুশু রাষ্ট্রের পিপি (পাবলিক প্রসিকিউটার)। সঙ্গে একদল দঙ্গল ফটো পাগল চামচা। বিনা বিচারে ফজলু মিয়া ২২ বছর জেল কেটেছেন। ভাই বাইশ বছর। ৫৪ ধারায় তাকে আটক করে জেলে পুরো হয়। দিন যায়,মাস যায়,বছর পেরোয়।যুগ অতিক্রান্ত হয়। দুই দশক পেরো্য। আমি ভাবি একটা মানুষ মানে কত কিছু। তাকে জড়িয়ে আছে কত মায়ার লতা পাতা। এখন তার কেউ নেই। আচ্ছা লোকটার কি বউ ছিলো ,বাচ্চা ছিলো ?? বউ টা কি প্রতিদিন কোর্টে না খেয়ে ঘুরেনি ? উকিল,মরির,সেরেস্তাদার এদের হাতে পায়ে ধরেনি। এমনও দিন হয়তো গেছে উকিল সাহেবের হাত পা ধরে উকিল সাহেব যখন চলে যাচ্ছেন তখন উকিল সাহেবের বউ বলছে,হানি তাড়াতাড়ি বেড়োও তোমার মিটিং। উকিল সাহেবের টাইটার নব টিক করে দিয়ে বলছে,বেটি আর সময় পায়না । ফজলুর বউটা এভাবেই হেটেছে।হ্য়তো কোন এক বৃষ্টি ভেজা সকালে জজ সাহেবের বাড়ীর সামনে তীর্তের কাক হয়ে বসেছিলো। জজ সাহেবের সাথে দেখা করবে বলে । বলবে, আমার বাচ্চা। বাচ্চা ।স্যার। জজ সাহেবের গাড়ী সাই করে তার সামনে দিয়ে গেছে জমে থাকা পানি তাকে ছিটিয়ে। এই পানি হয়তো স্পর্শ করেছে বাচ্চার মুখ। ফজলু মিয়া এখন অপ্রকৃতিস্তত,পাগল। কিছু মনে নেই। তার বুউটা এখন কোথায় ? ফজলুর জন্য অপেক্ষা করতে করতে হয়তো এখন অন্য কারো বাহুডোরে রাত কাটে। তার মেয়েটি হ্য়তো না খেয়ে মারা গেছে। না হলে মা হয়তো তাকে না খাওয়াতে পেরে বিক্রি করে দিয়েছে। মেয়েটি কি কখনও ঘুমুবার সময় বাবাকে কি মিস করেছে? ভাই "মিস কারেজ অব জাষ্টিস নিয়ে এই কয়দিন আগেও বৃটেনের এটর্নী জেনারেল কে পদত্যাগ করতে হয়েছে। রাষ্ট্রের সেক্রেটারি অব ষ্টেট কে পার্লামেন্টে এপোলজি চাইতে হইছে। মিলিয়ন পাউন্ড কমপেনসেশন দিতে হয়েছে। বিবিসি,স্কাই লিড করেছে। বাংলাদেশে এনটিভি ছাড়া কেউ এটাকে নিউজ করেনি। রাষ্ট্রের এটর্নী জেনারেল কোন স্টেইটমেন্ট দেওয়ার প্রয়োজন মনে করেন নি। কেউ পদত্যাগ করেন নি। বলবেন কালচার নাই। আমরা সবাই হাসিখুশি । শুনেছি আদালত অন্ধ। আন্ধা কানুন। তারপরও আদালতের একটি অর্ন্তদৃষ্টি থাকে। বিচারক মানবিক হোন। কিন্তু এখনে কেউ সুয়োমোটো করেনি ।কেউ কথা বলেনি !!
ফেসবুক পোষ্ট লিঙ্ক
Prisoners of Bangladesh
Thursday, 15 October 2015
আঙ্কেল, আমার জামিন কবে হবে?
এই সেই কিশোর রিফাত অাবদুল্লাহ খান যাকে ২১.০২.১৫ ইং তারিখ এস এস সি পরীক্ষার কেন্দ্র থেকে কোন প্রকার মামলা মোকদ্দমা ছাড়াই গ্র্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে পল্লবী থানার মামলায় এবং জেলে থাকা অবস্থায় রমনা থানার মামলায় সম্পৃক্ত করা হয়। দীর্ঘদিন কারাগারে অাছে রিফাত। গ্রেফতারের কারনে এস এস সি পরীক্ষা দিতে পারেনি। অাবার এস এস সি পরীক্ষা ঘনিয়ে এসেছে। কিন্তু জামিন হয়নি কিশোর রিফাতের। অাজ নিয়মিত হাজিরা। কথা হয় অাদালদতে । রিফাতের জিজ্ঞাসা অাংকেল জামিন কখন হবে.
এ্যাডভোকেট আব্দুর রাজ্জাকের ফেসবুক থেকে
Sunday, 19 July 2015
বন্দিশালার চার মাস: এবাদতের উত্তম স্থান কারাগার
বন্দিশালার চার মাস: এবাদতের উত্তম স্থান কারাগার
মাসুকুল ইসলাম রাজীব
মাসুকুল ইসলাম রাজীব
বন্দিশালার জানালা দিয়ে যখন বাইরে তাকাতাম তখন মনে হতো ঐ সড়ক দিয়ে কতবার হেঁটে গিয়েছি। বাসায় কিংবা বাইরে থাকার কারনে প্রতিদিন ঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে পারতাম না। কিন্তু জেল খানায় থাকাকালীন সময়ে প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেছি।
সকালে সবার সাথে বসে নাস্তা, দুপুরের খাবার খেতাম। তবে কারাগারের খাবারের মান খুবই নিন্মমানের ছিল। ডাল দিলে মনে হতো যেনো এখানে কেউ সাঁতার কাটতে পারবে। বিকেলে পুকুরে মাছকে খাবার দিতাম। সারাদিন একটু ভাল কাটলেও বিকেল পাঁচটার পর জীবনে মধ্যে যেন অন্ধকার নেমে আসতো। এসময়ের মধ্যে বাইরে থাকা সকল বন্দিকে তার স্ব স্ব ওয়ার্ডে চলে যেতে হতো। অবসর সময়ে বসে বসে অন্যান্য অপরাধীদের অপরাধ জগতে আসার গল্প শুনতাম। রাতে ঘুমানোর সময় লাইট জ্বালানো থাকতো।
আরো বেদনাদায়ক ছিল যখন দেখলাম অপরাধী না হয়েও প্রায় ৮০ ভাগ নিরাপরাধ লোক কারাগারে বন্দি জীবন কাটাচ্ছে। আইনের বেড়াজালে গ্রেফতার হয়ে এখানে দিনে পর দিন পার করছে।
Friday, 17 July 2015
প্রিয় মাতৃভুমির অনেক ঘরে আজ ঈদের আনন্দ নেই - ওলিউল্লাহ নোমান
প্রিয় মাতৃভুমির অনেক ঘরে আজ ঈদের আনন্দ নেই
লিখেছেন অলিউল্লাহ নোমান
রাত পোহালেই ঈদ। দীর্ঘ এক মাস রোজা শেষে ঈদ এসেছে। এই ঈদ হচ্ছে আমাদের মুসলিম জীবনের বড় উৎসব। কিন্তু দুনিয়ার সব মুসলমান কি এই উৎসব পালন করতে পারবে! জালিম ও হানাদার বাহিনীর অত্যাচারে অনেক দেশে মুসলমানরা আজ নিপীড়িত। তেমনি আমাদের প্রিয় মাতৃভুমির অনেক ঘরে আজ ঈদের আনন্দ নেই। জালিমের অত্যাচারে বহু মানুষ বাড়িছাড়া। অনেকে বছরের পর বছর কারাগারে রয়েছেন। অনেকে বছরের পর বছর বাড়ি থেকে দূরে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এসব পরিবারে ঈদের আনন্দ স্পর্শ করতে পারে না। বরং বেদনা বাড়িয়ে দেয়।
আমি নিজেও কারাগারে ছিলাম ২০১০ সালের রমজানের ঈদে। অনুভব করতে পারি কেমন লাগে ঈদের দিনটা। পরিবারের কেমন লাগে সেটাও কিছুটা হলে বুঝতে পারি।
গত ২ বছরে ২টি ঈদ কেটেছে আমার নিতান্তই অনেক দু:খ আর বেদনার মধ্য দিয়ে। কারন পরিবার থেকে অনেক দূরে আছি। এর মধ্যে গত বছর রমজানে আমার মহিয়সী মা ইন্তেকাল করেছেন। কাছে থাকতে পারিনি মা বিদায়ের সময়। এর চেয়ে বেদনা, কষ্ট, দু:খ মনে হয় পৃথিবীতে আর কিছু নেই। এবারের ঈদে অবশ্য আমার স্ত্রী ও ৩ সন্তান সঙ্গে আছে। কিছুটা হলেও একাকিত্ব কেটেছে।
সবশেষে যেটা বলতে চাচ্ছি আমাদের আমার দেশ পরিবারের সদস্যদের ঘরে আজ ঈদ নেই। কারন প্রিয় সম্পাদক আড়াই বছর যাবত জালিমের কারাগারে বন্দি। সরকারের নির্যাতনে বন্ধ থাকা আমার দেশ পরিবারের দু/একজন ছাড়া বাকী সবাই বেকার। ৪শতাধিক সদস্য রয়েছেন আমার দেশ পরিবারে। এই বেকার সদস্যদের পরিবারে আজ ঈদ স্পর্শ করবে না। তাদের ছেলে-মেয়েও আপনজনরা ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত। সম্পাদককে কারাগারে রেখে বেকার অবস্থায় ঈদ কেমন লাগে সেটা কেবল আমরাই বুঝি। এই ঈদে সকলের কাছে দোয় চাই, আল্লাহ দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক মজলুম মাহমুদুর রহমানকে মুক্তি পাওয়ার পথ সুগম এবং আমার দেশ জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং মানবাধিকারের বার্তা নিয়ে আবারো পাঠকের হাতে পৌছার ব্যবস্থা করে দিন।
অলিউল্লাহ নোমান
সাংবাদিক, দৈনিক আমার দেশ
Facebook Post: https://www.facebook.com/oliullah.noman/posts/858405914240843
লিখেছেন অলিউল্লাহ নোমান
রাত পোহালেই ঈদ। দীর্ঘ এক মাস রোজা শেষে ঈদ এসেছে। এই ঈদ হচ্ছে আমাদের মুসলিম জীবনের বড় উৎসব। কিন্তু দুনিয়ার সব মুসলমান কি এই উৎসব পালন করতে পারবে! জালিম ও হানাদার বাহিনীর অত্যাচারে অনেক দেশে মুসলমানরা আজ নিপীড়িত। তেমনি আমাদের প্রিয় মাতৃভুমির অনেক ঘরে আজ ঈদের আনন্দ নেই। জালিমের অত্যাচারে বহু মানুষ বাড়িছাড়া। অনেকে বছরের পর বছর কারাগারে রয়েছেন। অনেকে বছরের পর বছর বাড়ি থেকে দূরে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এসব পরিবারে ঈদের আনন্দ স্পর্শ করতে পারে না। বরং বেদনা বাড়িয়ে দেয়।
আমি নিজেও কারাগারে ছিলাম ২০১০ সালের রমজানের ঈদে। অনুভব করতে পারি কেমন লাগে ঈদের দিনটা। পরিবারের কেমন লাগে সেটাও কিছুটা হলে বুঝতে পারি।
গত ২ বছরে ২টি ঈদ কেটেছে আমার নিতান্তই অনেক দু:খ আর বেদনার মধ্য দিয়ে। কারন পরিবার থেকে অনেক দূরে আছি। এর মধ্যে গত বছর রমজানে আমার মহিয়সী মা ইন্তেকাল করেছেন। কাছে থাকতে পারিনি মা বিদায়ের সময়। এর চেয়ে বেদনা, কষ্ট, দু:খ মনে হয় পৃথিবীতে আর কিছু নেই। এবারের ঈদে অবশ্য আমার স্ত্রী ও ৩ সন্তান সঙ্গে আছে। কিছুটা হলেও একাকিত্ব কেটেছে।
সবশেষে যেটা বলতে চাচ্ছি আমাদের আমার দেশ পরিবারের সদস্যদের ঘরে আজ ঈদ নেই। কারন প্রিয় সম্পাদক আড়াই বছর যাবত জালিমের কারাগারে বন্দি। সরকারের নির্যাতনে বন্ধ থাকা আমার দেশ পরিবারের দু/একজন ছাড়া বাকী সবাই বেকার। ৪শতাধিক সদস্য রয়েছেন আমার দেশ পরিবারে। এই বেকার সদস্যদের পরিবারে আজ ঈদ স্পর্শ করবে না। তাদের ছেলে-মেয়েও আপনজনরা ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত। সম্পাদককে কারাগারে রেখে বেকার অবস্থায় ঈদ কেমন লাগে সেটা কেবল আমরাই বুঝি। এই ঈদে সকলের কাছে দোয় চাই, আল্লাহ দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক মজলুম মাহমুদুর রহমানকে মুক্তি পাওয়ার পথ সুগম এবং আমার দেশ জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং মানবাধিকারের বার্তা নিয়ে আবারো পাঠকের হাতে পৌছার ব্যবস্থা করে দিন।
অলিউল্লাহ নোমান
সাংবাদিক, দৈনিক আমার দেশ
Facebook Post: https://www.facebook.com/oliullah.noman/posts/858405914240843
Thursday, 16 July 2015
সন্তানের জন্য মায়ের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ - নোমান খান
সন্তানের জন্য মায়ের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ
লিখেছেন নোমান খান
লিখেছেন নোমান খান
মাকে ফোন দিলাম। কান্নাজরিত কন্ঠে ঈদের শুভেচ্ছা জানালো। সূদূর প্রবাস থেকে মায়ের কান্না যে কত বেশী ব্যাথা দিতে পারে সেটা ভাষায় প্রকাশ সম্ভব নয়। এক ছেলে 'জেলের অন্ধকার সেলে' ঈদ কাটাবে, অন্য ছেলে দেশ থেকে বহু দূরে ঈদ কাটাবে। প্রিয় দুই সন্তান ছাড়া মা অনেকটা একা। সন্তানদের জন্য তার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে।
আমার বড় ভাই প্রায় ১০ মাস হলো অত্যাচারির কারাগাড়ে বন্ধি। না তিনি কোন অপরাধ করেছেন, না কখনও কাউকে কোন কষ্ট দিয়েছেন। এমনকি রাজনীতির সাথেও তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন না। তার জগৎ জুড়ে ছিল পরিবার আর লেখাপড়া। একটি বছর তার জীবন থেকে হাড়িয়ে গেল। গত বছর মাষ্টার্স শেষ করে এ বছর পিএইচডি শুরু করার কথা। কারাগাড়ে বন্ধি থাকার কারণে মাষ্টার্সই এখন পর্যন্ত শেষ করতে পারেনি।
শুধু আমার বড় ভাই নয়। হাজারো নিরপরাধ তরুণ-যুবক বাংলাদেশের কারাগাড়ে বন্ধি। তাদের অপরাধ তারা হয়তো ছাত্রদল, নয়তো ছাত্রশিবিরের সাথে জড়িত। অনেক মা তার প্রিয় সন্তানকে হারিয়েছে। অনেক স্ত্রী তার স্বামিকে হারিয়েছে। অনেকেই পা হাড়িয়েছেন, হাত হাড়িয়েছেন। আবার অনেকেই বছরের পর বছর পরিবার থেকে দূরে আছেন। নিজ বাসায় আসতে পারছেন না। এই সবই হচ্ছে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল, সরকারের জোর করে ক্ষমতা ধরে রাখার ফসল। আর আমরা যারা চুপ আছি, এড়িয়ে চলছি, তারা হচ্ছি আরো বেশী বড় অপরাধী । আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করবেন কি না জানিনা।
আল্লাহ আমাদের সঠিক বুঝ দান করুন। আমাদেরকে আরো বেশী ধৈর্য্য ধরার শক্তি দিন। আমাদের ভিন্নতা আর আদর্শিক দন্দকে ভুলে একসাথে কাজ করার তাওফিক দিন। আমীন।
লেখকের ফেসবুক পোষ্ট: https://www.facebook.com/abbasnoman/posts/10207531066659344
Subscribe to:
Comments (Atom)



