বন্দিশালার চার মাস: এবাদতের উত্তম স্থান কারাগার
মাসুকুল ইসলাম রাজীব
মাসুকুল ইসলাম রাজীব
বন্দিশালার জানালা দিয়ে যখন বাইরে তাকাতাম তখন মনে হতো ঐ সড়ক দিয়ে কতবার হেঁটে গিয়েছি। বাসায় কিংবা বাইরে থাকার কারনে প্রতিদিন ঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে পারতাম না। কিন্তু জেল খানায় থাকাকালীন সময়ে প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেছি।
সকালে সবার সাথে বসে নাস্তা, দুপুরের খাবার খেতাম। তবে কারাগারের খাবারের মান খুবই নিন্মমানের ছিল। ডাল দিলে মনে হতো যেনো এখানে কেউ সাঁতার কাটতে পারবে। বিকেলে পুকুরে মাছকে খাবার দিতাম। সারাদিন একটু ভাল কাটলেও বিকেল পাঁচটার পর জীবনে মধ্যে যেন অন্ধকার নেমে আসতো। এসময়ের মধ্যে বাইরে থাকা সকল বন্দিকে তার স্ব স্ব ওয়ার্ডে চলে যেতে হতো। অবসর সময়ে বসে বসে অন্যান্য অপরাধীদের অপরাধ জগতে আসার গল্প শুনতাম। রাতে ঘুমানোর সময় লাইট জ্বালানো থাকতো।
আরো বেদনাদায়ক ছিল যখন দেখলাম অপরাধী না হয়েও প্রায় ৮০ ভাগ নিরাপরাধ লোক কারাগারে বন্দি জীবন কাটাচ্ছে। আইনের বেড়াজালে গ্রেফতার হয়ে এখানে দিনে পর দিন পার করছে।


No comments:
Post a Comment